জিবিএন বাংলা

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বেড়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী 

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি আগের বছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৃহস্পতিবার সংসদে বিএনপির দলীয় সদস্য লুৎফর রহমানের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির তথ্য তুলে ধরেন। এর আগে বিকাল সাড়ে তিনটায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। সংসদে মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭৩১৩ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১১ হাজার ৬৯৮ দশমিক ৬০ মিলিয়ন, ২২-২৩ অর্থবছরে ৭৭১৬ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭৪৩০ দশমিক ৯৬ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭৮৫৯ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের।  জামায়াতে ইসলামীর সদস্য আব্দুল বাতেনের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আগের বছরের তুলনায় ২০২৫–২৬ অর্থ বছরে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বেশি বেড়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ এখন প্রায় পৌনে ১৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতকে ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। বাকি অংশ ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারতের দিক থেকে কিছু বাধা থাকার পাশাপাশি গত দুই বছরে বাংলাদেশের দিক থেকেও কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। ভারত থেকে আমদানি বেশি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমদানি সরকার করে না, মূলত ব্যবসায়ীরা করেন। ব্যবসায়ীরা যে উৎস থেকে প্রতিযোগিতামূলক কম দামে পণ্য পান, সেখান থেকেই আমদানি করেন। মন্ত্রী বলেন, উৎস হিসেবে যদিও একটি দেশের ক্ষেত্রেই ব্যবধানটা এত বেশি, কিন্তু যারা আমদানি করেন তাঁরা তাদের সুবিধা বিবেচনায় নিয়েই সেখান থেকে আমদানি করেন। সম্প্রতি ভারতের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের কথাও তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ওই প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিলে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। সরকার এ প্রস্তাবে আগ্রহ দেখিয়েছে। এভাবে রপ্তানী বাড়াতে সমন্বিতভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, চীনের সঙ্গেও বাংলাদেশের বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। তবে সরকার কোনো একটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি আলাদাভাবে না দেখে সামগ্রিক বাণিজ্য পরিস্থিতির দিকে নজর দিতে চায়। তিন বছরে চারশোর বেশি গার্মেন্টস বন্ধ ২০২৩ সালের জুলাই হতে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে বিজিএমইএ এর সদস্য ২৮২টি এবং বিকেএমইএ এর ১২০টিসহ প্রায় চারশোর অধিক গামেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে। বন্ধ কারখানার নামের তালিকা সংগ্রহের কর্যক্রম চলমান আছে।  জামায়াতের সদস্য রুহুল আমিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এ তথ্য জানান।    গত ২২ জুন বিজিএমইএ হতে প্রকাশিত প্রতিবেদন উল্লেখ করে বাণিজ্য মন্ত্রী পোশাক কারখানা বন্ধের আটটি কারণ উল্লেখ করেন। সেগুলো হল— করোনা পরিস্থিতি; রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ; মধ্য প্রাচ্যে ইসরাইল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ, আমেরিকা-ইরানের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ; আন্তর্জাতিক মন্দা পরিস্থিতি; দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা; অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকিং সেক্টরে তারল্য সংকট; ইউরোপের সঙ্গে ভারত এবং ভিয়েতনামের এফটিএ চুক্তি এবং বিদেশী ক্রেতার নিজস্ব মনিটরিংয়ের সুবিধার্থে ছোট ও মাঝারি কারখানায় রপ্তানি আদেশ প্রদানে অনাগ্রহ।  বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বাজার ধরে রাখার জন্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন বাণিজ্য মন্ত্রী। তিনি জানান, বাংলাদেশ শীঘ্রই স্বল্পোন্নত রাষ্ট্র হতে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত হবে। ফলে উন্নত রাষ্ট্র কর্তৃক টেড্রিং স্কীমের আওতায় অগ্রাধিকার বাজার সুবিধা হারাবে এবং এর প্রভাবে ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে ইপিএ চুক্তি হয়েছে। কোরিয়ার সঙ্গে সিইপিএ চুক্তি সম্প্রদানের বিষয়টি চলামান আছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরসিইপি, আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, চীনসহ অন্যান্য রপ্তানি সম্ভাবনাময় দেশের সঙ্গে ইপিএ/সিইপিএ/এফটিএ চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির এমপি সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দুই স্ট্রোক ইঞ্জিন বিশিষ্ট থ্রি হুইলার যানবাহন আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯ অনুযায়ী আমদানি নিষিদ্ধ। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার উৎপাদন শিল্পকে সহায়তার জন্য যন্ত্রাংশ আমদানি করা হচ্ছে।  গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান মোল্যার প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এআরটি চুক্তি করার ফলে বাংলাদেশ তার প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় দেশটির বাজারে রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বেড়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী